ট্রাম্প-মোদি বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত: দেশে ফিরছেন শেখ হাসিনা?

 


**ট্রাম্প-মোদি বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত: দেশে ফিরছেন শেখ হাসিনা?**  


**আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ | ১৬:৩০**  


বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠক বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয় এবং গোপন কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।  


### **রাজনৈতিক পটভূমি**  

গত বছরের ব্যাপক রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিরোধী দলের আন্দোলনের মুখে ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেন। তার সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে, যার ফলে আন্তর্জাতিক চাপ বৃদ্ধি পায়। নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর দেশে ব্যাপক ধরপাকড় ও সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়, যার মধ্যে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ অন্যতম।  


### **ট্রাম্প-মোদি বৈঠকের সিদ্ধান্ত**  

বিশ্ব কূটনৈতিক মহলের নজর কাড়া ট্রাম্প-মোদি বৈঠকে বাংলাদেশ পরিস্থিতি বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়। জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যস্থতায় শেখ হাসিনার দেশে ফেরার একটি পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। এই পরিকল্পনার অধীনে:  


- শেখ হাসিনাকে নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে দেশে ফেরার সুযোগ দেওয়া হবে।  

- তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে সাময়িক বিরতি নেবেন এবং পরবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত নিরপেক্ষভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন।  

- তার বিরুদ্ধে থাকা মানবাধিকার লঙ্ঘনের আন্তর্জাতিক মামলাগুলো নির্দিষ্ট শর্তে স্থগিত রাখা হতে পারে।  


বিশ্ব রাজনীতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রভাব এবং ভারতের ভূরাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে মোদির সক্রিয় ভূমিকার কারণে এই চুক্তির বাস্তবায়ন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।  


### **বাংলাদেশের প্রতিক্রিয়া**  

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, "আমরা আন্তর্জাতিক কূটনীতির গতি-প্রকৃতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। বাংলাদেশে আইনের শাসন বজায় রাখা আমাদের প্রধান লক্ষ্য।" তবে, সরকারিভাবে এখনো শেখ হাসিনার ফেরার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।  


অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের এক সিনিয়র নেতা জানিয়েছেন, "জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে যে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে প্রস্তুত। আমরা আশা করছি, তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আবারও স্থিতিশীলতার পথে এগিয়ে যাবে।"  


### **পরবর্তী পদক্ষেপ কী?**  

বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনার ফেরার চূড়ান্ত সময় নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক সমঝোতা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির ওপর। তবে ট্রাম্প-মোদি বৈঠকের পর এই সম্ভাবনা অনেকটাই উজ্জ্বল হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।  


বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ এবং রাজনৈতিক মহল এখন তাকিয়ে আছে শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিকে।

Post a Comment

Previous Post Next Post