ড. ইউনূসের ওপর নিষেধাজ্ঞার সম্ভাবনা: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে তার ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ


 ড. ইউনূসের ওপর নিষেধাজ্ঞার সম্ভাবনা: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে তার ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ | 

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শীর্ষ দায়িত্বে থাকা নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার সম্ভাবনা ঘিরে দেশ-বিদেশে তুমুল আলোচনা চলছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, তার সাম্প্রতিক কার্যক্রম ও নীতিনির্ধারণী পদক্ষেপের কারণে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থা তার ওপর অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে আলোচনা করছে।

সরকার পরিচালনায় বিতর্কিত সিদ্ধান্ত

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর ড. ইউনূস অর্থনৈতিক সংস্কারের ওপর জোর দিয়েছেন। তবে সামরিক বাহিনী পরিচালিত 'অপারেশন ডেভিল হান্ট' নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভিযানের নামে হাজারো রাজনৈতিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার, সম্পদ বাজেয়াপ্ত ও কঠোর দমন-পীড়নের অভিযোগ উঠেছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এক বিবৃতিতে বলেছে, "বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিলেও, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কিছু পদক্ষেপ মানবাধিকার পরিপন্থী এবং স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাবের প্রতিফলন ঘটাচ্ছে।"

বিশেষ করে, 'ডেভিল' হিসেবে সাবেক সরকারের নেতাদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার অভিযানের কারণে ড. ইউনূসের সরকারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা

ওয়াশিংটন ও ব্রাসেলসে কূটনৈতিক আলোচনা চলছে এবং সূত্র বলছে, ড. ইউনূসের কিছু আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং সুবিধা স্থগিত করা হতে পারে। এ ছাড়া, তার নেতৃত্বাধীন অর্থনৈতিক প্রকল্পগুলোর ওপরও আন্তর্জাতিক তদারকি বাড়ানো হচ্ছে।

একজন পশ্চিমা কূটনীতিক বলেছেন, “বাংলাদেশের বর্তমান প্রশাসন মানবাধিকার লঙ্ঘন ও রাজনৈতিক প্রতিশোধের নীতিতে চলতে থাকলে, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে। ড. ইউনূসের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি এখন শুধু সময়ের ব্যাপার।”

পদত্যাগের চাপ বাড়ছে?

অর্থনৈতিক ও মানবাধিকার বিষয়ে ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক চাপের ফলে ড. ইউনূসের নেতৃত্ব নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের অভ্যন্তরেও মতভেদ দেখা দিয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কয়েকজন সিনিয়র কর্মকর্তা মনে করেন, "যদি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়িত হয়, তবে তা দেশের অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে এবং সরকারের স্থিতিশীলতা নষ্ট হবে।"

এমন পরিস্থিতিতে, কিছু কূটনৈতিক মহল ও দেশের রাজনৈতিক ব্যক্তিরা মনে করছেন, ড. ইউনূসের পদত্যাগ হতে পারে নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর একটি কৌশল। তবে এ বিষয়ে তার নিজস্ব অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়।

সরকারের প্রতিক্রিয়া

বাংলাদেশ সরকারের এক মুখপাত্র বলেছেন, "বিদেশি শক্তির প্রভাব খাটিয়ে আমাদের সরকারকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র চলছে। আমরা দেশের স্বার্থে কাজ করছি এবং কোনো ধরনের চাপের কাছে নতি স্বীকার করব না।"

তবে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয় এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) ও বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের অর্থায়ন কমিয়ে দেয়, তাহলে ড. ইউনূসের প্রশাসনের ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।

উপসংহার

ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্রমেই আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে পড়ছে। তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ হলে, তা শুধু তার ব্যক্তিগত ভাবমূর্তির ওপর নয়, বরং পুরো সরকারের গ্রহণযোগ্যতার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। আগামী সাত দিন এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে, এবং তার পদত্যাগের সম্ভাবনা এখন উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।


Post a Comment

Previous Post Next Post