নেতানিয়াহুর জন্য নতুন দুঃসংবাদ: ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস


**নেতানিয়াহুর জন্য নতুন দুঃসংবাদ: ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস**


**ডিএম নিউজ ডেস্ক**  

**প্রকাশ: ৭ এপ্রিল ২০২৫**


ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে সংকটের মেঘ আরও গাঢ় হচ্ছে। যুদ্ধাপরাধ ও দুর্নীতির অভিযোগে যখন আন্তর্জাতিক মহল তার বিরুদ্ধে সরব, তখন নতুন এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম *হারেৎজ* জানিয়েছে, ৭ অক্টোবর হামলার পূর্বাভাস থাকার পরও নেতানিয়াহু প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিয়ে চরম অবহেলা করেছেন, এমনকি এই হামলায় তার প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল বলেও প্রমাণ মিলেছে।


**'হানিবাল নির্দেশ' ও অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্রের অভিযোগ**


হারেৎজ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেদিন ইসরায়েলি সেনাদের 'হানিবাল নির্দেশ' বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল—যার অর্থ, হামাসের হাতে আটক হওয়ার আগেই নিজেদের নাগরিকদের হত্যা। প্রত্যক্ষদর্শী ও সেনাদের সাক্ষ্যে উঠে এসেছে, ওই দিন ইসরায়েলি সেনারা নিজেদের জনগণকে হত্যা করেছে যাতে তারা হামাসের হাতে জিম্মি না হয়। এই ঘটনার জন্য নেতানিয়াহুকেই দায়ী করা হচ্ছে।


**‘কাতারগেট’ তদন্তে বেরিয়ে এসেছে আরও বিস্ফোরক তথ্য**


ইসরায়েলি অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেট-এর তদন্ত অনুযায়ী, কাতার থেকে হামাসকে যে অর্থ পাঠানো হয়েছিল, তা নেতানিয়াহুর উপদেষ্টাদের মাধ্যমে গাজায় পৌঁছায়। এমনকি অর্থের একটি অংশ আত্মসাৎ করারও প্রমাণ পাওয়া গেছে।


**শিন বেট প্রধান বরখাস্ত চেষ্টা ও আইনি সংঘাত**


নেতানিয়াহু শিন বেট প্রধান রোনেন বারকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নিলেও সুপ্রিম কোর্ট এবং অ্যাটর্নি জেনারেল এর বিরোধিতা করেছে। আদালতের রায়ে বলা হয়, বরখাস্তের পেছনে নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত স্বার্থ জড়িত। তবুও নেতানিয়াহু রোনেনের সঙ্গে কাজ না করার ঘোষণা দেন, যা আরও রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করে।


**তেল আবিবে বিক্ষোভ, নেতানিয়াহুর পদত্যাগের দাবি**


এই সংকটের জেরে তেল আবিবে প্রায় ২ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছে নেতানিয়াহুর পদত্যাগের দাবিতে। বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিড জনগণকে অসহযোগ আন্দোলনের আহ্বান জানিয়েছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ ওলমার্ট পর্যন্ত বলছেন, “নেতানিয়াহুই ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় শত্রু।”


**গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা ও গণতন্ত্রের সংকট**


বিশেষজ্ঞদের মতে, শিন বেট প্রধানকে বরখাস্তের প্রচেষ্টা এবং সুপ্রিম কোর্টে নিজ অনুগামী বিচারক বসানোর পরিকল্পনা ইসরায়েলকে রাজনৈতিক বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। অর্থনীতি ও নিরাপত্তা—দু’দিক থেকেই সংকটে পড়ছে দেশটি।


**সিদ্ধান্ত জনগণের হাতে**


নেতানিয়াহুর ভবিষ্যৎ এখন ইসরায়েলি জনগণের হাতে। তারা কি দুর্নীতিগ্রস্ত এই নেতার পাশে থাকবে, নাকি তাকে সরিয়ে একটি গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের পথে এগোবে—এই প্রশ্নে দেশজুড়ে বিতর্ক তুঙ্গে।


**তথ্যসূত্র**: হারেৎজ, ডেইলি সাবাহ (তুরস্ক)


Post a Comment

Previous Post Next Post